ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়নে ফেনীর সোনাগাজীতে হচ্ছে ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ৭১৫ একর জমিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি)। ১ হাজার ৮৮৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সোনাগাজী ২২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ নির্মাণ কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। আগামীকাল (রোববার) পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প শক্তি বিভাগে প্রকল্পটি নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ে মূল্যায়ন সভা (পিইসি) অনুষ্ঠিত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটিই হবে দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
জানা যায়, সোনাগাজীর পূর্ব বড়ধলী এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২০১৭ সালে এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রথমে অধিগ্রহণকৃত জমির ২৮৫ একর ব্যবহার করে ৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। বাকি ৭১৫ একরে ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) তথ্য বলছে, ১ হাজার ৮৮৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি)। এতে আইডিবির ঋণ সহায়তার পরিমাণ ১ হাজার ৬২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সরকার ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে যথাক্রমে ১৪৭ কোটি ৫৬ লাখ এবং ১১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ইজিসিবি।
জানা গেছে, দেশের মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ উৎপাদনের লক্ষ্যে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬০টি সোলার পিডি মডিউল ও ২৬টি গ্রিড কানেক্টেড ইনভার্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
২৪০ এমভি ক্ষমতার একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, চারটি ২৩০/২৩৩ কেভি ট্রান্সফরমার ও অক্সিলিয়ারি ট্রান্সফরমার, ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনের ১৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার দ্বিতীয় সার্কিট এবং বেজা সাবস্টেশনে একটি জিআইএস বে ও ইজিসিবির ৭৫ মেগাওয়াট সাবস্টেশনে এআইএস বে নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৬ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার পানিরোধক বাঁধ (ডাইক), ২ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার লম্বা দক্ষিণ ডাইকে সিসি ব্লক স্থাপন এবং কন্ট্রোল রুম ও পাঁচতলা ডরমিটরি ভবন নির্মাণ করা হবে।
সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পটি নিয়ে প্রথম দফায় পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পিডি মডিউল ও ইনভার্টারের বাজারমূল্য এবং বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের সর্বশেষ এসআরও অনুযায়ী পুনরায় ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় কমিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পিইসি সভার আহ্বান করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের বিদ্যুৎ উইংয়ের উপপ্রধান সায়মা আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় পিইসি সভা ডাকার মূল কারণ হলো এ প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আরো কীভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে পর্যালোচনা করা।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশেষ করে ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বদলে প্রকল্পটি ২৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন করা সম্ভব কিনা তা দেখা হবে। কারণ উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ অলসভাবে পড়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের মধ্যে আলোচনা হওয়া দরকার।’
এদিকে চলতি বছরের ২৯ জুন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) যৌথভাবে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
ইজিসিবির ওয়েবসাইটে দেয়া সর্বশেষ তথ্য বলছে, মোট চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ৩৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিদ্ধিরগঞ্জ ২৪০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট, সোনাগাজী ৭৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং হরিপুর ৪১২ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র।